শিরোনাম ::
শিরোনাম ::

খুলনার দাকোপে দুই ব্রিজ নির্মাণে জেগে উঠতে পারে নতুন শিল্প ও পর্যটন সম্ভাবনা

প্রকাশঃ
প্রসেসিং হচ্ছে, দয়া করে অপেক্ষা করুন...
খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালি ও চুনকুড়ি নদীর ওপর দুটি সেতু নির্মাণের দাবি জোরালো হয়ে উঠছে স্থানীয়দের মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই দুটি সেতু বাস্তবায়ন হলে দাকোপ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা, পর্যটন, কৃষি, মৎস্য ও শিল্প খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে।

Bnc News -এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বর্তমানে খুলনা শহর থেকে দাকোপ ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় যেতে নদী পারাপারের কারণে দীর্ঘ সময় ও অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের। পানখালি ও চুনকুড়ি নদীর ওপর সেতু নির্মাণ হলে খুলনা শহর থেকে সড়কপথে মাত্র ১ থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যেই করমজল কিংবা সুন্দরবনে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এতে রূপসা নদীর মনোরম দৃশ্য উপভোগ করেই সরাসরি যাতায়াত করা যাবে।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে নদী পারাপারে নৌকা ভাড়ার জন্য অতিরিক্ত ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সেতু নির্মাণ হলে সেই ভোগান্তি ও অতিরিক্ত ব্যয় থেকে মুক্তি মিলবে। একই সঙ্গে সুন্দরবনভিত্তিক পর্যটন শিল্পেও নতুন গতি আসবে।

ঐতিহাসিকভাবে দাকোপের গুরুত্বও কম নয়। একসময় এই উপজেলার চালনাতেই ছিল দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর, যা তখন ‘চালনা বন্দর’ নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু খুলনার সঙ্গে দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পরে সেটি মোংলায় স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে মোংলা বন্দরের যে সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম দৃশ্যমান, তার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

Bnc News কে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও দাকোপ এলাকায় ইতোমধ্যে সিমেন্ট মিল, হ্যাচারি, গ্যাস জেটিসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। ভবিষ্যতের সম্ভাবনা বিবেচনায় বড় বড় শিল্পগোষ্ঠীও এলাকায় জমি কিনে রেখেছে বলে জানা গেছে।

এলাকাটিতে প্রতিবছর শতকোটি টাকার তরমুজ বাণিজ্য হয়। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য উৎপাদন ও হাজার কোটি টাকার মাছের ব্যবসা পরিচালিত হয়। উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে উঠলে এসব খাত আরও সম্প্রসারিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পাশাপাশি লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

খুলনার মধ্যে সমুদ্রের সবচেয়ে নিকটবর্তী ও সম্ভাবনাময় উপজেলা হিসেবে দাকোপকে বিবেচনা করা হয়। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই অঞ্চলের পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।

প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, পানখালি ও চুনকুড়ি নদীর ওপর নির্মিতব্য দুটি সেতুর প্রতিটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১২০০ মিটার হতে পারে। এতে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে পরিকল্পিতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে শুধু পর্যটন খাত থেকেই বছরে হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুফল আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়াও কৃষি, মৎস্য, পরিবহন ও শিল্প খাতে বহুমুখী ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সবশেষ খবর সবার আগে পেতে Bnc news-এর সাথেই থাকুন। নিয়মিত আপডেট পেতে আমাদের bncbd.com ভিজিট করুন।

×

এই খবরের অডিও ভার্সন শুনতে নিচের প্লে বাটনে ক্লিক করুন

0:00 / 0:00 0%

একটি মন্তব্য করুন